ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেটে আয়োজিত মিলাদ ও মানববন্ধনে তার হত্যার বিচার দাবি করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। এই অনুষ্ঠানে মামলার প্রধান আসামি সামিরাকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের শাস্তির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সালমান শাহর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তরা মাজার এলাকায় তার কবর জিয়ারত করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত ভক্ত এই ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোট, সিলেট’-এর আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তরা এই মানববন্ধনে যোগ দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সালমান শাহ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি সামিরাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সময়ে মামলার ৪ নম্বর আসামি ডনকে গ্রেপ্তার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। বক্তারা বলেন, "সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে তার মা অ্যাডভোকেট নীলা চৌধুরী, স্বজন ও হাজারো ভক্তের ৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে।" এছাড়াও দ্রুত মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিরা শাহ, মিঠুন রাজ, সিজান, মামুনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত-অনুরাগীরা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু হয়। তার পারিবারিক নাম শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন সালমান শাহ। সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকেই তার স্ত্রী সামিরা এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে আসছেন। তবে তার মা নীলা চৌধুরীসহ ভক্ত-অনুরাগীদের একটি অংশ এ দাবির সঙ্গে একমত নন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছেন এবং বিচার দাবি করে আসছেন।
সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি ডনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।