আগামী ৩ অক্টোবর অষ্টম ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু হবে। দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (আইবিবি) এ পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে। বছরে দুবার ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগে এ পরীক্ষা ব্যাংকিং ডিপ্লোমা নামে পরিচিত ছিল। ব্যাংকারদের পেশাগত দক্ষতা, উৎকর্ষতা ও তাত্ত্বিক জ্ঞান মূল্যায়নে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়—জেএআইবিবি ও এআইবিবি। প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ ব্যাংকাররা নিজ নিজ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ ব্যাংকাররা ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার পান। চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নিম্নলিখিত আটটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে।

১. সুন্দর উপস্থাপনা: পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পরিচ্ছন্ন হাতের লেখা এবং ছোট বাক্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাত্ত উল্লেখ করা কার্যকর। খাতার মার্জিন সঠিকভাবে নির্দিষ্ট রাখা, ঢালাও উত্তর না লিখে পয়েন্ট আকারে উত্তর লেখা এবং প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উত্তর লেখা গুরুত্বপূর্ণ।

২. চার্ট, টেবিল ও গ্রাফ ব্যবহার: গতানুগতিক উত্তর না লিখে প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চার্ট, টেবিল ও গ্রাফ ব্যবহার করলে বেশি নম্বর মেলে। আইবিবির স্টাডি ম্যাটেরিয়াল ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে উত্তর লিখলে সহজে পাস করা সম্ভব।

৩. ইংরেজি মাধ্যমে উত্তর: পরীক্ষার উত্তর বাংলা বা ইংরেজি দুভাবেই লেখা যায়। তবে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া ভালো। কারণ ব্যবসা, অর্থনীতি ও আর্থিক পরিভাষাগুলো ইংরেজিতে প্রস্তুতি নেওয়া এবং উত্তর লেখা সহজ। একইভাবে গাণিতিক বিষয়েও ইংরেজিতে উত্তর করা সহজ। তবে বিজনেস কমিউনিকেশন ইন ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন পরীক্ষার উত্তর অবশ্যই ইংরেজিতে দিতে হবে।

৪. ইন্টারনেট-ভিত্তিক প্রস্তুতি: আইবিবির ওয়েবসাইটে স্টাডি ম্যাটেরিয়াল রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বইও পাওয়া যায়। এসবের পাশাপাশি গুগল, উইকিপিডিয়া, ইনভেস্টোপিডিয়া, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই সার্চে টপিক অনুযায়ী উত্তর খুঁজে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

৫. বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান: ২০২৩ সাল থেকে ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষার নতুন সিলেবাস চালু হয়েছে। বর্তমান প্রশ্নপদ্ধতি ষষ্ঠ ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা ২০২৫ সাল থেকে চালু হয়েছে। বিগত বছরের প্রশ্ন প্রায়ই কমন পড়ে। তাই বিগত বছরের প্রশ্ন, টীকা, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও গাণিতিক সমস্যা সমাধান করলে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ। এতে পরীক্ষার প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা তৈরি হয়।

৬. আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা: নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আবেদনের সময় মোট ছয়টি বিষয়ের আবেদন করা ভালো। কোনো সাবজেক্টে নির্ধারিত পাস মার্ক না পাওয়া গেলে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য জেদ ও আত্মবিশ্বাস রাখা দরকার।

৭. চাকরির শুরুতেই পরীক্ষা: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির শুরুর দিকে ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশাগত ও পারিবারিক দায়িত্ব বাড়ে, পড়াশোনার সুযোগ কমে। তাই দেরি না করে আইবিবির ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম।

৮. বাসায় মডেল টেস্ট: দীর্ঘদিন একাডেমিক বা পেশাগত পড়াশোনার বাইরে থাকার পর হঠাৎ পরীক্ষায় বসলে নানা সমস্যা হয়। যেমন সময় ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনের চেয়ে বড় বা ছোট উত্তর লেখা, গাণিতিক সমাধানে ফর্মুলা ভুল, তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় ক্লান্তি, নির্ধারিত সময়ের আগে হল থেকে বের হয়ে যাওয়া। শুক্র বা শনিবার বাসায় মডেল টেস্ট দিলে এসব সমস্যা এড়ানো যায়। এতে পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

*লেখক: রাজিব খান, সিনিয়র অফিসার, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা দুটি পর্ব (জেএআইবিবি, এআইবিবি) উত্তীর্ণ। বিবিএ, এমবিএ, (ফিন্যান্স বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়