দেহ থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ অপসারণের প্রধান মাধ্যম হলো প্রস্রাব। তবে রাতের বেলায় প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তা ঘুমের গুরুতর ব্যাঘাত ঘটায়। ডাক্তারি ভাষায় এই অবস্থাকে নকচুরিয়া বলা হয়। সাধারণত মানুষ রাতের মধ্যে এক বা দুইবার প্রস্রাব করতে উঠতে পারেন, যা স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু যদি প্রস্রাবের তাগিদে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং দিনভর ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে এটি চিকিৎসার প্রয়োজনীয় একটি সমস্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে প্রস্রাব বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি শারীরিক ও জীবনযাত্রার কারণ কাজ করে। প্রথমত, শোয়ার আগে অতিরিক্ত পানি বা তরল পদার্থ গ্রহণ করলে মধ্যরাতে মূত্রথলি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় এবং প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে থাকে, যার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি দেখা দেয়। বিশেষ করে মূত্রবর্ধক বা ডাইউরেটিক ওষুধ রাতের বেলা সেবন করলে প্রস্রাবের আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

চতুর্থত, মূত্রথলির কার্যকারিতার সাথে সম্পর্কিত সমস্যার কারণেও এটি ঘটে। মূত্রথলি সঠিকভাবে কাজ না করলে বারবার মূত্রত্যাগের তাগিদ অনুভব করা যায়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ওভার–অ্যাকটিভ ব্লাডার নামে পরিচিত। নারীদের মেনোপজের পর এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। পঞ্চমত, বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেহে অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, যা রাতে প্রস্রাব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ছষ্ঠত, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, প্রোস্টেটের সমস্যা বা মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণের মতো অন্যান্য শারীরিক রোগও এই লক্ষণ তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, রাতের বেলায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মানসিক দুশ্চিন্তাও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন, যদি এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী হয়, ঘুমের গুরুতর ব্যাঘাত ঘটায় বা এর সাথে শরীরে দুর্বলতা ও পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।