নির্বাচনের ছয় মাস পরেও দেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি ও মূল্যস্ফীতির সংকট সমাধানে ব্যর্থ থাকলে সরকারকে দায়িত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের সংকট উত্তরণ করতে না পারলেও জনগণকে নতুন নতুন সংকটের সম্মুখীন করেছেন। এমন কোনো কাজ করতে পারেননি যেটার মাধ্যমে জনগণ আশ্বস্ত হবে।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে ‘জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। সমাবেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
বর্তমান সংকটের প্রভাব বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পোৎপাদনে ধস নেমেছে, হাজার হাজার মানুষ বেকার হচ্ছে, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, গ্যাসের কারণে বাসা-বাড়ির রান্না বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কারখানা বন্ধ হচ্ছে। বেকারত্বের কারণে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি নগর জীবনকে আতঙ্কিত করে তুলছে।”
রাষ্ট্রীয় সংকটগুলো সমাধানে সরকারের উদাসীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুতর সমস্যা সমাধানে সরকারের মধ্যে গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান যুদ্ধ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে দায় এড়াতে চায় বলে মনে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের সরকারের ওপরে দায় দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে শুধু দুঃখ প্রকাশ করেন। দেশকে সংকটে ফেলে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলে হবে না, সমাধান করতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
দলের মহাসচিব আরও বলেন, “এত সংকটের মধ্যেও আপনারা ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ড চালু করলেন। এর মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে দুর্নীতি করার আরেকটি সুযোগ করে দিলেন। সংকট উত্তরণে ছয় মাসেও আপনাদের স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না দেখে হতাশ হয়েছি।”
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “রাষ্ট্রের সংকট সমাধান হতেই হবে। সংকটের কারণ যাই হোক না কেন—রাষ্ট্রের সংকট সমাধান করাই সরকারের কাজ। দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নাই। সমস্যার সমাধান করতে না পারলে দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীদের স্থলে যোগ্যদের দায়িত্ব দিন।”
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইলিয়াস হাসান প্রমুখ।