সংসদীয় বিষয়াবলি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথাগত কূটনীতির পাশাপাশি সংসদীয় কূটনীতি ও পেশাদার বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাত হয়। এ সময় কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ক্ষেত্র ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা পরিচালিত হয়।

বৈঠকে মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।” সময়ের পরিক্রমায় দ্বিপাক্ষিক এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজ সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিজ্ঞান, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি খাত এবং সর্বোপরি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কানেকশন’ সুসংহত করতে যৌথ ও সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বৈদেশিক নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। নতুন প্রজন্মের সমন্বয় ও কাঠামোর অধীনে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-মস্কো অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় সার্বিক আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, উভয় দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” বিদ্যমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “পারস্পরিক সুবিধা বা ‘মিউচুয়াল বেনিফিট’ হলো যেকোনো টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আসল ভিত।” জনকূটনীতি ও সামাজিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সম্পর্ক সুদৃঢ় করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যৌথ স্বার্থ ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য খাইরুল কবির খোকন, সাঈদ আল নোমান, সাইফুল আলম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ ও জেবা আমিন খান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমও এতে অংশ নেন। ঢাকার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘স্টেট দুমা’-তেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে ‘গ্রুপ অব ডেপুটিস’ গড়ে তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জনকূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের সুসম্পর্ক সুসংহত করতে সেখানে ধারাবাহিক কাজ চলছে। সংসদীয় কূটনীতির এই শক্তিশালী বিকাশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে উভয় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।