দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে প্রায় ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহের অভিযোগে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মনীতি মেনে চলা হয়নি। বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়টি আলোচনার জন্য রাখা না হলেও ‘বিবিধ’ কলামে তা তুলে ধরে অর্থদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকারী দল বাংলাদেশে কার্যরত ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের তথ্য ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে প্রাথমিক যাচাই করেছে, যেখানে অভিযোগের সত্যতার ইঙ্গিত মিলেছে।

তৎকালীন বিএবি সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মজুমদারের মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এরপর ব্যাংকগুলোর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর–সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে দুদক বলেছে, ওই তহবিল থেকে ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা বা নীতিমালা পাওয়া যায়নি। সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা নীতিমালা না থাকার পরও ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধুমাত্র অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিই নয়, ট্রাস্টের আয়কর রিটার্নে দেখানো বিশাল ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দুদক। ২০১৬-১৭ করবর্ষ থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের দাখিল করা আয়কর রিটার্নে ৬৭ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৯ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এই ব্যয়ের পক্ষে ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চেয়ে ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তা পাওয়া যায়নি বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।