নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে লুট হওয়া ২ হাজার ২৫০টি ব্লকের মধ্যে ১ হাজার ৫৭৮টি বর্তমানে ফেরত পাওয়া গেছে। গত রোববার বিকেল থেকে আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লুটকারীরাই নিজেরাই এসব ব্লক নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে রেখেছেন।
উত্তর বরান্তর বাজারের পাশে চিকাডুবি হাওর এলাকায় বাঁধের ওপরের ২৫০ মিটার অংশের ব্লক লুট হওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে এই ঘটনা শুরু হয়। বিষয়টি স্থানীয় জনতা পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনলে ২৩ আগস্ট পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পাউবো নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৫০টি ব্লক লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত দিয়েছে। নিয়ে যাওয়া ব্লক কেউ গোয়ালঘরে, কেউ মাচার নিচে, কেউ হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করেছেন। কেউ আবার বাড়ির পাশে ঢেউ থেকে রক্ষার জন্য রেখেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরহাইজদা উপপ্রকল্প ফসল রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার বাঁধ ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাঁধটি ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরি উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার পানি থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাঁধের পাশের বরান্তর গ্রামের ব্যবসায়ী বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, বানিয়াহারী গ্রামের প্রায় ২৫ ব্যক্তি নৌকায় করে ব্লক নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাঁর মাছের আড়তেও হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতের বেলা এসব ব্লক নিয়ে গেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের বাড়িঘরে এসব ব্লক পাওয়া যাচ্ছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক নেওয়া বন্ধ হয়নি। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ব্লক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়। বাকি ব্লকগুলো শুক্রবারের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব হবে।