শরতের আগমনে খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পার্বত্য জেলাটির বিভিন্ন উচু জমি, নদীতীর, জলাভূমি ও সড়কের পাশে ফুটে উঠেছে সাদা কাশফুল। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৮ মাইল এলাকায় বিস্তৃত কাশবন এখন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
দূর থেকে দেখলে সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশের নিচে যেন সাদা মেঘ নেমে এসেছে বলে মনে হয়। ভ্যাপসা গরমের পর শরতের মিষ্টি বাতাস ও কাশফুলের দোল প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে প্রশান্তি ফিরিয়ে এনেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও পরিবারের সদস্যরা এই স্থানে আসছেন। কেউ ক্যামেরায় ক্যাপচার করছেন দৃশ্য, আবার কেউ বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। নগরজীবনের ব্যস্ততা এড়িয়ে প্রকৃতির সান্নিধিতে সময় কাটাতেই বেশিরভাগ দর্শনার্থীর আগ্রহ।
জয়ন্তী দেওয়ান বলেন, "সাধারণত পাহাড়ে কাশফুল তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে এবার জুম পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কাশফুলের সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ছে। তাই বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তুলতে এসেছেন তিনি। আকাশের এক টুকরো মেঘ যেন কাছ থেকে ছুঁতে পারার অনুভূতির কথা জানান তিনি।"
অন্যদিকে, ফারহানা আক্তার জানান, "শরৎ এলেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে, আর কাশফুলের শুভ্রতা সেই সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। তাই পরিবার নিয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে এসেছেন তিনি।"
প্রকৃতিপ্রেমী ও খাগড়াছড়ির ‘হিল অর্কিড সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মারমা বিষয়টি সচেতনতার দাবি জানান। তিনি বলেন, "শরতের কাশফুল খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও শুভ্র কাশফুলের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছরই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও নিতে হবে। কাশবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানগুলোতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে এবং গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সবাইকে সচেতনভাবে সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।"
প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের সমাগম। বর্ষার শেষ সংকেত হিসেবে এই শুভ্র কাশফুল ধীরে ধীরে শীতের আগমন ঘোষণা করছে।