জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সমাজের সকল স্তরে দুর্নীতি নির্মূলের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে হবে।"
নির্বাচনী ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, "আগে নির্বাচনের সময় ডিসি, ইউএনও ও ওসিদের বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো। সব মিলিয়ে তখন ঘুষ ও দুর্নীতির মহাঅরণ্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে এবার স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে; আমি কাউকে অনৈতিকভাবে একটি টাকাও দিইনি, কেউ চায়ওনি।"
অতীতের চাকরি হারানোর ভয় বা অনৈতিক চাপের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অতীতে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কিংবা অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে কাজ করানো হলেও সেই দিন এখন শেষ হয়েছে। এখন থেকে সবাইকে ঈমান, সততা ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।"
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী জানান, "আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার এবং রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথা একটাই—দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে।"
ঠিকাদারি লেনদেন, চিকিৎসক-নার্স বদলি ও পরিচালক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "আগে ঠিকাদারদের লেনদেন, নার্স-চিকিৎসকদের বদলি ও পরিচালকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। সেই পুরো পরিস্থিতিই দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল (টোটাল সিনারিও ছিল ফুল অব করাপশন)। এসব অনিয়ম থেকে দেশকে বের করে আনতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি উল্লেখ করেন। তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে জুয়া, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা সভায় সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, পুলিশ সুপার গোলাম সারোয়ার আলম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা নূর হোসেন এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রওশন আরা।