ফক্স নেটওয়ার্কের জেনারেশন জেডভিত্তিক কমেডি ধারাবাহিক ‘অ্যাডাল্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুম ২৭ আগস্ট থেকে প্রচারিত হচ্ছে। এই সিরিজে ইসা নামের এক আত্মবিশ্বাসী ও বেপরোয়া চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ২৭ বছর বয়সী অমিতা রাও দর্শকমহলে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছেন।

ধারাবাহিকটির গল্প অনুযায়ী, প্রেমের চেয়ে বন্ধুত্বকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ইসা তার প্রেমিক পল বেকারকে (জ্যাক ইনানেন অভিনীত) দেশে থাকার জন্য বন্ধু অ্যান্টনের (ওউয়েন থিয়েলে অভিনীত) সাথে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে পল ও অ্যান্টনের মধ্যে যে রসায়ন তৈরি হয়, তা ইসার পক্ষে উপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। দ্বিতীয় মৌসুমে এই সম্পর্কের জটিলতা আরও কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। তবে অমিতা রাওয়ের কাছে এই প্রেমের ত্রিভুজের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় ইসা ও অ্যান্টনের বন্ধুত্বের গতিপ্রকৃতি। তিনি জানান, দুই বন্ধুর মধ্যকার টানাপোড়েন এবং পর্দার আড়ালে যা বলা হয়েছে বা বলা হয়নি—সে বিষয়ে তিনি ও ওউয়েন থিয়েলে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।

অমিতা রাও মনে করেন, জেনারেশন জেডের মানসিকতা ও জীবনযাপনের যে ছবি সিরিজটি তুলে ধরেছে, তা আগে তিনি খুব একটা দেখেননি। সিরিজটি প্রথম প্রচারিত হওয়ার পর সহশিল্পী মালিক এলাসালের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি একধরনের ‘এনার্জি শিফট’ অনুভব করেছিলেন। দর্শকরা প্রায়শই তাঁকে চরিত্রটির সাথেই মিলিয়ে ফেলেন। অনেক সময় মানুষের অভিবাদন জানানোর ধরন দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, তারা তাঁকে চরিত্রটির চোখেই দেখছেন। অমিতা রাও বলেন, অভিনেতা ও জনপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় মানুষের কল্পনা ও ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার এক ধরনের ‘ক্যানভাসে’ পরিণত হন। খ্যাতির সঙ্গে এমন অভিজ্ঞতাও আসে। তিনি এতে আহত হন না, বরং বাস্তবে তিনি ইসা নন—তা স্পষ্ট করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না।

নিজের কমেডি তৈরি ও প্রযোজনার অভিজ্ঞতা থেকে অন্যের লেখা ও নির্মিত একটি জগতে অভিনেতা হিসেবে কাজ করা অমিতার জন্য বড় পরিবর্তন ছিল। তবে সিরিজটির চিত্রনাট্য পড়ে তিনি অনুভব করেছিলেন, গল্পটিতে তাঁর কিছু যোগ করার সুযোগ আছে। তিনি বলেন, কোনো লেখা যত ভালোই হোক, নিজের ছন্দ বা অভিনয়ের ধরন দিয়ে তাতে কিছু যোগ করতে না পারলে তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নিজের কমেডির জগৎ অনেক বেশি সমতাভিত্তিক, বিশেষ করে ইম্প্রোভাইজেশনের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজের একটি নির্দিষ্ট স্তরবিন্যাস থাকে।

ধারাবাহিকটির অন্যতম শক্তি হলো এর চরিত্রগুলোর বন্ধুত্বের রসায়ন। পর্দায় তাদের সম্পর্ক এতটাই স্বাভাবিক যে দর্শকরা প্রশ্ন করেন, বাস্তবেও কি তারা এত দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন? অমিতা রসিকতা করে বলেন, কর্তৃপক্ষ হয়তো জানত না তারা এত পার্টি করবেন! এফএক্স তাদের পাইলট পর্বের শুটিংয়ের প্রায় এক মাস আগে থেকেই একসঙ্গে থাকার সুযোগ দিয়েছিল। সেই সময় তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, পার্টি করেছেন, ঘুরেছেন—আর সেখান থেকেই দ্রুত গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। বিশেষ করে ওউয়েন থিয়েলে ও মালিক এলাসালের সাথে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়।

কাজের বাইরে অমিতা রাওয়ের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা পানির কাছে। তিনি বলেন, পানি তাকে নিজের মন ও অবচেতনের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। তাঁর কল্পনার আদর্শ দিনটি হবে—একটি হ্রদের পাশে বন্ধু, সাথে স্যান্ডউইচ, বই ও স্কেচপ্যাড। রোদ থাকলে সাঁতার, আর আকাশ মেঘে ঢেকে গেলে বই পড়া ও ছবি আঁকা।

কমেডির প্রতি ভালোবাসা কীভাবে টিকিয়ে রাখেন? অমিতা রাওয়ের উত্তর—মানুষের সাথে সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করে। অভিনয় বা কমেডির সবচেয়ে জাদুকরি মুহূর্ত তখনই তৈরি হয়, যখন তিনি কোনো সহশিল্পীর সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হতে পারেন। কোনো দৃশ্যে অন্য কাউকে নিজের চেয়ে বেশি মজার মনে হওয়া, ইম্প্রোভাইজেশনের সময় পুরো দলের সাথে একই ছন্দে চলে আসা কিংবা দীর্ঘদিনের কমেডি সঙ্গীর সাথে পারফর্ম করা—এসব মুহূর্তই তাকে শিল্পের প্রতি নিবেদিত রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বেড়ে ওঠা অমিতা রাও ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের ঝোঁক রাখতেন। মাত্র কিন্ডারগার্টেন থেকেই থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি আজিজ আনসারি ও আলি ওংয়ের কমেডি স্পেশাল মুখস্থ করে বন্ধুদের সামনে পরিবেশন করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধু চেলসি ম্যাটকিন্সের সাথে মিলে একটি কমেডি দল গড়ে তোলেন। পরে কমেডি ও ইম্প্রোভাইজেশনের পরিবেশ আরও কাছ থেকে জানতে শিকাগোতে চলে যান। ২৩ বছর বয়সে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এর শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের শোকেসে নির্বাচিত হওয়া তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এরপর অবশ্য সাফল্য সহজে আসেনি। এক বছরের বেশি সময় ধরে একের পর এক অডিশন দিয়েও কাজ পাননি। এই সময়টা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। পরে থেরাপি ও চিকিৎসার সহায়তায় সেই কঠিন সময় কাটিয়ে আবার অভিনয়ে মনোযোগ দেন। এরপর পরপর তিনটি টেলিভিশন প্রজেক্টে কাজের সুযোগ পান। তবে ‘অ্যাডাল্টস’-এর ইসা চরিত্রটি অমিতার ক্যারিয়ারে বড় বাঁক এনে দিয়েছে।