মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মানিকপুরে জমি দখলকে কেন্দ্রে এক বৃদ্ধা ও তার ছেলেকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি খালি করার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

গত ২১ আগস্ট রাতে দেশীয় অস্ত্র—রামদা, ছেনদা ও লোহার রড নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি বসতবাড়িতে ঢুকলে জরিনা বেগমকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর ছেলে ঠান্ডু মিয়াকেও মারধর করা হয়। গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেন। পরদিন ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক একটার দিকে বসতঘরের চারপাশে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জরিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। পরে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনেন তিনি।

নিরাপত্তা চেয়ে জরিনা বেগমের মেয়ে হোসনে-আরা আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—সেকান্দার ব্যাপারী (৫০), এসকান্দার ব্যাপারী (৪৫), বেলায়েত তালী (২০), নাদিম তালী (২০), ইদ্রিস তালী (৫৫), নূর ইসলাম তালী (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)।

ভুক্তভোগী জরিনা বেগম রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই বাড়ি আমার স্বামীর। আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকি। যে জমি নিয়ে তারা দাবি করছে, সেই জায়গাতেই আমার স্বামীর কবর রয়েছে। আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। না গেলে মেরে গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা থাকি। অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করে। এই সুযোগে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মাতুব্বর বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। আমরা কয়েক দফা সালিশ করেছি। বৃদ্ধ মহিলা প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তার অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা মানা হয়নি। এরপর তাদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। একজন বৃদ্ধ নারী ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগ অস্বীকার করে এসকান্দার ব্যাপারী বলেন, “তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা তাদের মারধরও করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “আদালত থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”