পরিকল্পনা কমিশনে শনিবার অনুষ্ঠিত সরকারি ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঘোষণা করেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ শুরু করছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে সরকার।

বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকার থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থাই এর মূল কারণ। এখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার। গত ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট আড়াল না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে জ্বালানিনিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও কমবে। দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদন ও অর্থায়ন করা হবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের জন্য বাজেটে রাখা দুই হাজার কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।"

গ্রাহকদের কেবল ব্যবহারকারী না রেখে উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেট মিটারিং–ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইডকল ও বিআইএফএফএলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নে যুক্ত করা হবে। কোনো গ্রাহক বা উৎপাদক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ দেবেন, অন্য প্রতিষ্ঠান বা অ্যাগ্রিগেটর দেবে ২০ শতাংশ এবং বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। এ ধরনের ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটির মাধ্যমে পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা থাকলেও ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি নিরসন ও অর্থায়নের মাধ্যমে এসব কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতেও কাজ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পিকেএসএফের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকার আরও অর্থ দেবে। পাশাপাশি অংশীদার সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও অর্থায়ন করা হবে।"

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাউন্ডেশনগুলো ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’, সৌরবিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান—এই পাঁচটি ক্লাস্টারে কাজ করবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।