দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খান কারাগারে। তার কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখেই পাকিস্তান সরকারের কাছে ইমরানের মুক্তির আবেদন জানালেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান।
পাকিস্তানি সাংবাদিকদের ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানকে নিয়ে কথা বলেন মিয়াঁদাদ। ইমরানকে মুক্তি দিলে পাকিস্তানের কী ক্ষতি হবে, এমন প্রশ্ন তুলে সব পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।
মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমি ইমরানকে খুব ভালোভাবে চিনি। সে একজন সৎ মানুষ।’
جاوید میانداد کے اِس انٹرویو نے تباہی مچا دی ہے، اب دیکھنا سب حوصلہ پکڑیں گے، اب یہ سلسلہ رُکے گا نہیں یہ بھی سو فیصد کنفرم بتادوں پٹواری جاوید میانداد پر مُنظم حملہ کریں گے اب pic.twitter.com/ZKsZEnEoA7 — Abuzar Furqan (@AbuzarFurqan) August 28, 2026
جاوید میانداد کے اِس انٹرویو نے تباہی مچا دی ہے، اب دیکھنا سب حوصلہ پکڑیں گے، اب یہ سلسلہ رُکے گا نہیں یہ بھی سو فیصد کنفرم بتادوں پٹواری جاوید میانداد پر مُنظم حملہ کریں گے اب pic.twitter.com/ZKsZEnEoA7
ইমরানের সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও জানান পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। জাতীয় দলের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। খেলেছেন পাকিস্তানের সোনালি সময়ের বহু স্মরণীয় ম্যাচ।
কারাগারে ইমরান কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা ভাবলেই কষ্ট হয় মিয়াঁদাদের। তার ভাষায়, ইমরানও কারও সন্তান। সাবেক সতীর্থের কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন ৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয় থেকেই বলছি।’
খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরান ও মিয়াঁদাদের সম্পর্কের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে ১৩৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তাঁরা। ইমরান করেন ৭২, মিয়াঁদাদ ৫৮ রান। পাকিস্তান ম্যাচটি ২২ রানে জিতে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে।
ক্রিকেট থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দেন ইমরান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ইমরান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
সম্প্রতি তার চিকিৎসা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক দলের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি হাসপাতালে নেয়। কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষার পর আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়।
সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেলসহ একদল সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।
রাজনীতি ও পাকিস্তান ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ। তবে সেই মতপার্থক্য তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক মুছে দিতে পারেনি। দেশের জন্য ইমরানের অবদান মনে রেখে দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।