মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বর্তমান সরকার গুম, খুন, অত্যাচার বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনার পক্ষে নয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬-এর সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
‘বিরোধী দল মাঠের বক্তব্যে অনেক অভিযোগ করতে পারে। তবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশে এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে আর কখনো গুম, নির্যাতন কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’ মন্ত্রী বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও গুম-খুনের বিরুদ্ধে সুদূর বিলেত থেকে আন্দোলনে সব সময় অংশ নিয়েছেন। বর্তমান নির্বাচিত, দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক সরকার মূলত একটি জনগণের সরকার। কোনো গুম, খুন কিংবা কোনো ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনে এই সরকার বিশ্বাস করে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আদালতে অভিযোগ বা চার্জশিট দাখিল না হওয়া সত্ত্বেও অনেক আসামি জামিন পাচ্ছেন কিনা এবং তারা দীর্ঘদিন আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিনা—এমন প্রশ্ন তোলা হয়। এ বিষয়ে সেখানে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কারারুদ্ধ থাকাটাই স্বাভাবিক।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
‘ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তা কার্যকর করার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। তাই তাদের প্রতি কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আটকে রাখা হয়েছে এমন কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।'