রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নতুন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে তিনি এ মামলার তদন্ত চলমান থাকার এবং পেশাদারিত্বের সাথে বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন মাহবুবুর রশীদ। এর আগে গত ১২ আগস্ট সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রশীদ বলেন, "আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটি একটি ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।"
নতুন কমিশনার বলেন, "তদন্ত আসলে একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্ন আসবে। সেই প্রশ্নগুলোর পেশাদারত্বের সঙ্গে জবাব খোঁজাটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সে কাজগুলো করছি। আমার জন্য এই মামলা সম্পর্কে এখন কিছু বলাটা খুব আগাম হয়ে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ মামলা নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলোর যথাযথ জবাব দিয়ে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।"
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানি দিয়ে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রশীদ বলেন, "আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটি একটি ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। আমি গতকালই যোগ দিয়েছি। আপনারা যেহেতু বলেছেন, আমি বিষয়টি দেখব।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কী দেখেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি আসলে এসেছি কেবল। ইতিপূর্বে মামলার যে অগ্রগতি, সেটা আপনাদের পূর্ববর্তী কমিশনার সময়মতো ব্রিফ করেছেন। আমি আপাতত সেই জায়গাতেই থাকতে চাই।" তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা ক্লু পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, "এরপর যদি নতুন কোনো ক্লু আসে, আপনারাও দেবেন, আমরা তদন্ত করব। আসলে কাজটা পুলিশেরই। আর আপনাদের কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
এদিকে রংপুর মহানগরীতে মাদকের বিস্তার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নতুন পুলিশ কমিশনার বলেন, "‘মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয়। এটি পুরো বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা। আজ সকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মাদকের বিষয়ে কিছুটা ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আগামী এক সপ্তাহ আমি সবাইকে সময় দিয়েছি। আপনারা রংপুর শহরে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।"
গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরে থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ.