নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড আজ শুক্রবার সকালে ওসলোর জাতীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স ছিল ৮৯ বছর। গত সপ্তাহে একটি বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।

অসলোর রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজা হ্যারাল্ড। মৃত্যুর পর প্রাসাদের উপর রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে যান। এদিকে সাধারণ মানুষ প্রাসাদের সামনে ফুল রেখে রাজার আরোগ্য কামনা করেছিলেন।

রাজার মৃত্যুর পর নতুন নরওয়ের রাজা হলেন তাঁর ৫৩ বছর বয়সী ছেলে হাকন। আজ তিনি সরকারের সঙ্গে এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলে বসবেন বলে জানানো হয়েছে।

১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অসলোর কাছে স্কাউগুম রাজকীয় এস্টেটে জন্মগ্রহণ করেন হ্যারাল্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি জার্মানির আক্রমণের মুখে তিনি মা ও পরিবার নিয়ে প্রথমে সুইডেনে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। যুদ্ধবিগ্রহ শেষে দেশে ফিরে তিনি উচ্চশিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালে যুবরাজের খেতাব পান তিনি। রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিংহাসনে আরোহণ করেন হ্যারাল্ড।

১৪ শতকের পর তিনিই নরওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া দেশটির প্রথম রাজা। ৩৫ বছর ধরে সিংহাসনে থাকাকালীন তিনি নরওয়েতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংস্কারবাদী শাসক হিসেবে স্বীকৃতি পান। রাজপরিবারের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের নারীকে বিয়ে করার মাধ্যমে এবং দেশের সংকটময় মুহূর্তগুলোয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মাধ্যমে তিনি রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দেন। রাজপরিবারের পর্যবেক্ষকরা তাঁকে বিনয়ী ও সম্মানিত এক শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।