ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে এই চেষ্টা কখন, কোথায় বা কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি তিনি।
গতকাল সোমবার এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই দাবি জানান। উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বর্তমান জনমত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পিছিয়ে রয়েছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এই দাবি করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে নিশানা করেছিল। ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে একটি নিরাপত্তা সংস্থার অস্বীকৃতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নেতানিয়াহু এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে আইজেনকোট বর্তমানে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আইজেনকোটের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে মত দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়। তিনি আরও বলেন, ‘এটি না থাকলে ইরানিরা সফল হবে।’
নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের জন্য বাড়তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর ৩৫ বছর বয়সী বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি শহরে অবস্থান করছেন, যা নিয়ে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে খামেনির মেয়ে বুশরা ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও, বাবার দাফন উপলক্ষে এক বার্তায় তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।