পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের রোগীদের খাবারে তেলাপোকা ও দুর্গন্ধের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে চামচে খাবার তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শোঁকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের মুখে পড়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন। তবে তিনি দাবি করেছেন, রোগীদের অনুরোধেই তিনি খাবারের গন্ধ পরীক্ষা করেছিলেন।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণের সময় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে খাবার পরীক্ষার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এ সময় মজিবুর রহমান টোটন চামচে করে খাবার তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখছেন। কিছুক্ষণ পর তাকে আবারও চামচে খাবার তুলে একইভাবে পরীক্ষা করতে দেখা যায়।

রাজীব আহমদ নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করে মজিবুর রহমান টোটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে এক মন্তব্যে তিনি জানান, ভিডিওতে টোটনকে খাবার খেতে দেখা যায়নি; তিনি শুধু খাবারের গন্ধ পরীক্ষা করেছেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের খাবারের মান যাচাই করছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে মজিবুর রহমান টোটনের দাবি, তিনি নিজের উদ্যোগে খাবার পরীক্ষা করেননি। রোগীদের অনুরোধেই তিনি এটি করেছেন। তিনি জানান, জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন রোগী তাকে ডেকে খাবারে তেলাপোকা এবং তেলাপোকার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করেন।

মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “খাবারে তেলাপোকা বা তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি মুখে দিয়ে পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই চামচে খাবার তুলে শুধু নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করছে।

এদিকে হাসপাতালের কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বেডে তেলাপোকার উপদ্রব বেড়েছে। এতে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। রোগীদের সরবরাহ করা খাবারেও তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিনকে তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে শোনা গেছে।

তবে খাবারে তেলাপোকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের বাবুর্চি মজিবর মিয়া। মজিবুর রহমান টোটন খাবার পরীক্ষা করার সময় মুখে দিয়েছিলেন কি না, এ বিষয়ে বাবুর্চি মজিবর মিয়ার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রথমে তিনি দাবি করেন, টোটন খাবার খেয়ে প্রশংসা করেছেন। পরে একই চামচে খাবার মুখে দেওয়ার পর সেটি আবার খাবারে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তিনি খাবার মুখে দেননি।”

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “শুধু রোগীদের খাবার নয়, হাসপাতালের সব ধরনের খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে, গত ১০ আগস্ট ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তেলাপোকার উপদ্রবে ভোগান্তিতে রোগীরা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি’ শিরোনামে মুক্তকণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার উপদ্রব, রোগীদের ভোগান্তি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাসপাতালের তেলাপোকার সমস্যা নতুন করে আলোচনায় আসে।