পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে কামারডাঙ্গা, মুন্সীপাড়া, ঢালীপাড়া ও চরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের জন্য এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়।

সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু ইসহাক মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মকবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় সাঁকোটির উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাওলানা ইকবাল হোসাইন বলেন, "মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কৃষকসহ এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের সমস্যা বিবেচনা করেই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজন ও দুর্ভোগ বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমতো পাশে থাকবে।"

তিনি আরও বলেন, "কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে জমিতে যেতে পারেন এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে আনতে পারেন, সে জন্য স্থানীয়ভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে এই পথে চলাচলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘকাল দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে জমিতে যাওয়া, ফসল আনা এবং শিক্ষার্থী ও শিশুদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হতো। এই সাঁকোটি নির্মাণের ফলে কামারডাঙ্গা ও চরপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তারা এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এখনো স্থায়ী সেতু ও পাকা রাস্তা নির্মিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

কামারডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোস্তফা বলেন, "এই সাঁকোটি সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের জমিতে যেতে অনেক ঘুরে যেতে হতো। ফসল কাটার সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতো। এখন সাঁকো হওয়ায় সরাসরি জমিতে যেতে পারব এবং ফসলও সহজে বাড়িতে আনতে পারব।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুন্সীপাড়া ব্রিজ থেকে কামারডাঙ্গা মসজিদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় এলাকাটি পিছিয়ে রয়েছে বলে তারা জানান।

চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "এখানে একটি স্থায়ী সেতুর প্রয়োজন দীর্ঘদিনের। আপাতত বাঁশের সাঁকো হওয়ায় মানুষের চলাচলে অনেক সুবিধা হবে। বর্ষার সময় এটি আমাদের জন্য খুবই কাজে দেবে।"

আরেক বাসিন্দা মোছা. রহিমন্নেছা বলেন, "বাচ্চাদের নিয়ে এ পথে চলাচল করতে অনেক ভয় লাগত। সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় এখন নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলও কিছুটা সহজ হবে।"

তিনি শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সমস্যার কথা উল্লেখ করে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সদর উপজেলা সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল আইনুল, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।