মাত্র ৭৫০ বলেই শেষ হওয়া বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টের পিচকে সর্বোচ্চ ‘ভেরি গুড’ রেটিং দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুই দিনে ৩০ উইকেট পতনের পরও ম্যাচ কর্মকর্তারা গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন ক্রিকেটের প্রতিবেদক টম মরিস এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো আনুষ্ঠানিক রেটিং প্রকাশ করেনি।

আইসিসির বর্তমান পিচ গ্রেডিং পদ্ধতিতে চারটি স্তর রয়েছে: ‘ভেরি গুড’, ‘স্যাটিসফ্যাক্টরি’, ‘আনস্যাটিসফ্যাক্টরি’ এবং ‘আনফিট’। ম্যাচ শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাচ রেফারি পিচ ও আউটফিল্ডের মান যাচাই করে এই রেটিং প্রদান করেন। ‘ভেরি গুড’ পিচের বৈশিষ্ট্য হলো শুরুতে ভালো ক্যারি, সীমিত সিম মুভমেন্ট এবং ধারাবাহিক বাউন্স। এমন উইকেটে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াইয়ের সুযোগ থাকার কথা।

ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত এই টেস্টে প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পড়েছিল। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে শরিফুল ইসলামের ৭ উইকেটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ২১০ রানের বেশি করতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯৫ রানে অলআউট হলে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এক ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে।

ম্যাচ দ্রুত শেষ হলেও পিচকে দায়ী করতে রাজি ছিলেন না অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, “পিচ যথেষ্ট ভালো ছিল। পাঁচ সেশনে ৩০ উইকেট পড়ার মতো উইকেট বলে মনে হয়নি।” তার মতে, ভালো বোলিংয়ের পাশাপাশি দুই দলের ব্যাটারদের দুর্বল পারফরম্যান্সই ম্যাচটি দ্রুত শেষ হওয়ার মূল কারণ।

এই টেস্টে স্টার্ক দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট শিকার করেন, অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম তার ক্যারিয়ারসেরা ৭ উইকেট লাভ করেন। ফলে পিচের অস্বাভাবিক আচরণের চেয়ে দুই দলের পেসারদের দক্ষতা এবং ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।