ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন চার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছে দেশটি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি দাবি করেছে ভারত। এই চার্জ যুক্ত হলে বিদ্যুৎ আমদানির খরচ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে চুক্তি করতে দেরি হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন এই চুক্তির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করা প্রয়োজন। এই চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ-বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরবর্তীতে পিডিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল দাম নয়, বরং এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ-বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন ও লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। এতে সামগ্রিক খরচ খুব বেশি বাড়বে না এবং এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তির ফলে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলাদাভাবে বিল শোধ করার প্রয়োজন থাকবে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ-বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে সিইআরসি এই ব্যবস্থা চালু করেছে। নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারত একই হারে এসএনএ চার্জ নিচ্ছে।

পিডিবি সূত্র অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউল নির্ধারণ, মিটারের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার খরচ মেটাতেই এই চার্জের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা আছে। এছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না। পিডিবি কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এই ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।