বঙ্গোপসাগরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) নতুন কার্গো নিয়ে জাহাজ পৌঁছেছে। এই জাহাজটি এক্সিলারেট টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার পর টানা তিন দিনের বিরতি কাটিয়ে আজ শনিবার বিকেল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে সরবরাহ বাড়লেও ধারণা করা হচ্ছে, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি তদারক করে এবং আমদানির মূল দায়িত্বে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বেলা ২টা থেকে ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। রাত ৯টার পর থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।"
এর আগে টানা ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। তবে নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে গত বুধবার বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আজ জাহাজ আসার পর মজুত থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ বছর ধরে দেশে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে—একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৫ আগস্ট তা পুনরায় প্রস্তুত হয়। তবে নতুন কার্গোর অভাবে পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ চালানো হচ্ছিল। এই সময়ে সামিট তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি সরবরাহ করলেও মাঝে এলএনজির অভাবে তাদেরও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে এবং বাকি অংশ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে। তবে এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ গড়ে সক্ষমতার অর্ধেকের কাছাকাছি রয়েছে।
আজ দুপুর ১২টায় এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট, যা বিকেলে বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুট হয়। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৩০ কোটি ঘনফুট। আজ রাতে এলএনজি সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছালে মোট সরবরাহ হবে ২৩৭ কোটি ঘনফুট। আগামী কয়েক দিন এই হার বজায় থাকলেও গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কম দামে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। আগস্ট মাসে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও একটিও আসেনি, যার ফলে এলএনজির ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দফায় দরপত্র ডেকে এই মাসের জন্য দুটি কার্গো পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি আজ দুপুরে পৌঁছেছে এবং রাতেই তা খালাস করা হবে। আরেকটি কার্গো ২৬-২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে।