আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচকে ‘পাতানো’ বলেছিলেন মিশরের ফুটবলার মোস্তফা জিকো। রেফারিংয়ের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোচ হোসাম হাসানও। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পর সেই মন্তব্যগুলোর কারণে এবার ফিফার কাঠগড়ায় তারা।

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, দলীয় পরিচালক ইব্রাহিম হাসান এবং উইঙ্গার মোস্তফা ‘জিকো’ আবদেল-রউফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা।

তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। ঠিক কোন ধারা ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে কিংবা কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সেটিও প্রকাশ করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। ইয়াসির ইব্রাহিম ও জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল আফ্রিকান দলটি। তবে শেষ দিকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচে জিকোর আরেকটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়। আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলে মিশর। এসব সিদ্ধান্ত ঘিরেই ম্যাচের পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের তীব্র সমালোচনা করেন মিশরের কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়েরা।

হোসাম ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, “আজ আর্জেন্টিনার চেয়ে আমরাই ভালো দল ছিলাম। কিন্তু ফুটবল আমাদের প্রতি ন্যায়বিচার করেনি।”

আর্জেন্টিনা ও মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখার পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মিশর কোচ। তার যমজ ভাই ইব্রাহিমের দাবি ছিল, রেফারির বড় ভুলগুলোর কারণেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মিশরকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেন জিকো। তিনি বলেছিলেন, “আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের জন্য অভিনন্দন। টুর্নামেন্টটি পাতানো।”

রেফারি শুরু থেকেই মিশরের বিপক্ষে ছিলেন দাবি করে জিকো প্রশ্ন তুলেছিলেন, “তারা কি আমাদের আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারাতে দিত?”

মিশরের অভিযোগ অবশ্য আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তার দাবি ছিল, ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল এবং আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ফিফার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনজনের পাশে দাঁড়িয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জবাব ও আইনি নথি জমা দেওয়া হবে।

ফেডারেশনটি বলেছে, ফিফার নিয়ম ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পথে কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়ের স্বার্থ এবং মিশরীয় ফুটবলের অধিকার রক্ষা করা হবে।