চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫৯৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
জেলা হাসপাতালের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে সংক্রমণের গতি কিছুটা ধীর থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে তা তীব্র হয়। প্রথম সপ্তাহে অন্তর্বিভাগে দৈনিক নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা চার থেকে ১০ জনের মধ্যে থাকলেও ২০ আগস্ট এক দিনেই ৩৯ জন ভর্তি হন। ওই দিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে মোট ৫৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
১ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বিভাগে মোট ৩৫৪ জন এবং বহির্বিভাগে ২৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২০ জন নারী এবং সাতজন শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হুজরাপুর, বালুবাগান, পিটিআই, মসজিদপাড়া ও আলীনগর মহল্লার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা থেকেও প্রতিদিন রোগী আসছেন।
নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তারা মশক নিধনের কথা বললেও বাস্তবে তেমন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। হুজরাপুর-পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এলাকায় ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর। ড্রেন ও নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। মশা মারার ওষুধ ছেটানোর কথা শুনলেও বাস্তবে এলাকাতে কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি না।"
শিবগঞ্জ পৌরসভার ছোটচক এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো পেলেও মূল সমস্যা তো বাইরে। মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে দিনের বেলাতেও টেকা যায় না। পৌরসভা থেকে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও ওষুধ না দিলে রোগী বাড়তেই থাকবে।"
মশক নিধনের বিষয়ে মুক্তকণ্ঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ ও শিবগঞ্জ পৌরসভা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানান, নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন নতুন বাজেট পাস না হওয়ায় পৌরসভার রাজস্ব থেকে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। নতুন বাজেট পাস হলে কার্যক্রম আরও ব্যাপক করা সম্ভব হতো বলে তারা জানান।
সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক জমির মোহাম্মদ হাসিবুস সাত্তার জানান, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই রোগীর চাপ বাড়ছে, যাদের বড় অংশই শহরের ঘনবসতি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান চিকিৎসক সাত্তার।