দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই লক্ষ্য অর্জনে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের পোশাক কারখানায় চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে, যা বাড়িয়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “৫০০ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে। নানা সুবিধা দিয়ে আরও শিগগিরই ১ হাজার ৩০০ কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাকি ১ হাজার ৫০০–এর মতো কারখানায় নীতিসহায়তাসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উপযোগী করা যাবে।” একই সঙ্গে তিনি সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারি শুল্কসুবিধা থাকলেও বাস্তবে তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও প্রতি কেজিতে তিন ডলার করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে শুল্ক ভার ২৭ শতাংশের বেশি পড়ে। এতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর খরচের বোঝা বাড়ে।”

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বললেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গতি মন্থর।