অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় এক তরুণী প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে গরম পানি দিয়ে গোসল করছিলেন। গোসল শুরু করার মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
ফায়ার অ্যালার্ম কেন বেজে উঠল—এই প্রশ্নে পরে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই তরুণী। শুরুতে তাঁর ধারণা ছিল, হয়তো অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার (ফায়ার ড্রিল) অংশ হিসেবে অ্যালার্মটি কাজ করেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই তাঁর জন্য অন্যদিকে মোড় নেয়। তিনি গোসল চালিয়ে যান, কিন্তু এরপর তাঁকে ১ হাজার ৮০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি বিল দিতে হতে পারে বলে জানান হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকারও বেশি।
তরুণীর নাম ভামিকা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি তাঁকে হতবাক করে দিয়েছিল।
ভামিকা বলেন, ‘আমি মাত্র পাঁচ মিনিট হয় গোসলে ঢুকেছি। বাথরুমের এগজোস্ট ফ্যানটি চালু করিনি। কারণ, আমার সহজেই ঠান্ডা লেগে যায়।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনটির ফায়ার অ্যালার্ম আবারও সক্রিয় হয়। শুরুতে ভামিকা ভাবেন, অ্যালার্মটি হয়তো অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার অংশ। পরে ভবনের একজন ম্যানেজার অ্যালার্মের সংকেতের জবাব দিতে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করলে তিনি বুঝতে পারেন, গোসলের সময় তৈরি হওয়া বাষ্পের কারণেই অ্যালার্মটি বেজে উঠতে পারে।
যন্ত্রটি কোথায় স্থাপন করা আছে—সেটিও তাঁকে বিশেষভাবে ভাবায়। বাথরুমের এত কাছাকাছি কেন একটি ফায়ার ডিটেক্টর (আগুন শনাক্তকারী যন্ত্র) স্থাপন করা হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরে ভামিকা দাবি করেন, এ ঘটনায় তাঁকে ১ হাজার ৮০০ অস্ট্রেলীয় ডলারের একটি বিল পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তাঁর ধারণা, এ খরচ ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভামিকার এই অভিজ্ঞতা অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এ বিষয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, গরম পানিতে গোসলের সময় ওঠা বাষ্পে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠতে পারে কি না এবং জরুরি সেবাদানের খরচের দায় বাসিন্দাদের ওপর চাপানো উচিত কি না। আবার কয়েকজন যুক্তি দেন, সঠিক স্থানে স্থাপন করা ফায়ার অ্যালার্ম গোসলের বাষ্পে সহজে সক্রিয় হওয়ার কথা নয়; তাঁদের মতে, ভবনের অ্যালার্ম ব্যবস্থা হয়তো অতিরিক্ত সংবেদনশীল।