দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের চেয়েও অধিক নাজুক বলে দাবি করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার মতে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের সময়েও অর্থনীতির অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি।
সরকারের সাফল্যের দিকটি আলোচনা করতে গিয়ে ফুয়াদ বলেন, "পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের নিজস্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির একটি অভিমুখ তৈরি হয়েছে।"
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর এবং ভারত সফর নিয়ে সরকারের গৃহীত অবস্থানকেও স্বাগত জানান তিনি।
তবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবি পার্টির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে পূর্বের নেওয়া সংস্কারগুলো বাতিল করেছে, যার ফলে রাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
ফুয়াদের দাবি, নতুন বাজেটের পর সরকারকে প্রতিদিন ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ প্রতিদিন ১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকার কোথা থেকে সংগ্রহ করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির অন্যান্য নেতারাও সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন। তারা অর্থনীতি, সংস্কার, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বাস্তবতার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।