যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়বে বলে মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, ‘এই প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। তাই যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং অলীক কল্পনায় বিভোর থাকা বন্ধ করছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ বলবৎ রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায় না।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত ইরান নেয়নি। শাহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হতো, যা বর্তমানে অচল।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিন নাগরিকদের পেট্রোলের বাড়তি দাম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম দেওয়া সার্থক, যদি এর বিনিময়ে একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’ ট্রাম্প এই যুক্তির মাধ্যমেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প পেট্রোলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান যুদ্ধের পর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এই নেতিবাচক প্রভাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধ নিয়ে ইরান দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখলেও দেশটির অর্থনীতিতে ক্ষতির প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।