দেশের বর্তমান তীব্র গ্যাস সংকটে চরম উদ্বিগ্ন শিল্পোদ্যোক্তারা। এই সংকট নিরসনে তারা সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি গ্যাসের দাম কমানো এবং প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক মো. ফজলুল হক এই সংকটের বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "কয়েক দশক ধরে আমরা শিল্পোদ্যোক্তারা গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আগের কোনো সরকার আমাদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস–সংকটের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে যখন সমস্যা তীব্র হয়েছে, তখনই অস্থায়ী নানা ব্যবস্থায় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঘুরেফিরে কিছুদিন পরপর এ সমস্যা সামনে আসে। এ অবস্থায় আমরা বর্তমান সরকারের কাছে গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আশা করছি, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"

দেশের নিজস্ব গ্যাসের অপর্যাপ্ততা স্বীকার করে তিনি আরও জানান যে, রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা জানি, আমাদের নিজস্ব গ্যাসের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। তাই চাইলেই রাতারাতি এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তেমন আমরা আশাও করি না। কিন্তু সংকট যখন চরমে পৌঁছে যায়, তখন সে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ আশা করি। পাশাপাশি এটাও আশা করি যে এ সমস্যাকে যুগের পর যুগ জিইয়ে না রেখে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানিবিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। তিনি বলেন, "বর্তমানে গ্যাস–সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানিবিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সরকার ঘোষণা দিয়ে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে। তবে যা–ই করা হোক না কেন, তা যেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানানো হয়। তাতে উৎপাদন থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, উদ্যোক্তা ও ব্যবহারকারী সবাই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।"

গ্যাসের স্বল্পতার পাশাপাশি সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত অপচয়, ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার অদক্ষতা এবং চুরির মতো সমস্যাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, "চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের স্বল্পতা যেমন আমাদের রয়েছে, তেমনি রয়েছে সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত অপচয়, ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার অদক্ষতা, চুরিসহ নানা সমস্যা। এখন যেহেতু সংকট তীব্র হয়েছে, তাই পদ্ধতিগত অপচয় রোধ, ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়িয়ে সংকটের কিছু সমাধান করা যেতে পারে। এই মুহূর্তে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যান। এ পরিকল্পনায় প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থার কথা ভাবা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিল্পের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও জ্বালানিবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।"

গ্যাস সংকটের কারণে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানান মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, "বর্তমানে গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে শিল্পোদ্যোক্তারা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে। তাতে উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। তাই সরকারের কাছে আমার দাবি, যত দিন গ্যাসের এ তীব্র সংকট দূর না হচ্ছে, তত দিন শিল্পে গ্যাসের দাম কিছুটা কমানো দরকার। কারণ, ব্যবসায়ীদের বিকল্প জ্বালানির জন্য বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।"