গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে কেটে রাখা উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও অনিয়ম শনাক্ত হওয়ায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কেটে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় ধরনের ত্রুটি–বিচ্যুতি ও অনিয়ম লক্ষ করা গেছে।"

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলো আইনানুগ হার ও যথাযথ বিধান অনুসরণ না করায় সরকারের রাজস্ব আহরণ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পরবর্তীকালে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের রাজস্ব অপচয় রোধ এবং ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী, গ্রাহকের সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি বা অন্য যেকোনো আমানতের সুদ বা মুনাফা প্রদানের সময় প্রাপকের ধরনভেদে প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে। তবে কোনো করদাতা যদি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা পিএসআর জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হারের চেয়ে আরও ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই কর্তনকৃত উৎসে করের অর্থ দীর্ঘ সময় নিজেদের জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে জমিয়ে রাখতে পারবে না। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর ধারা ৮ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে এবং চালান ও বিবরণীর কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার জন্য অর্থবছরের মাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসের যেকোনো সময়ে কেটে রাখা কর সংশ্লিষ্ট মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে। জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কেটে রাখা কর পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জমা করতে হবে। আর জুন মাসের ২১ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে কেটে রাখা যেকোনো করের অর্থ পরবর্তী দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।