নতুন সপ্তাহের শুরুতেই বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের নজর এখন অর্থনৈতিক সূচক এবং বাজারদরের দিকে। আজ রোববার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে চলবে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় এবং আমানত ও ঋণের কার্যক্রম। সোনার দামের অস্থিরতা এবং নিত্যপণ্যের বাজারদরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারের কথা বলা হলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসইএস সূচক ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস–৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২১৯১ পয়েন্টে ঠেকেছে। আজ এসব সূচকের অবস্থান ধরেই লেনদেন শুরু হবে।

বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারের ক্ষেত্রে ডলারের দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। ওই দিন ইউরো, পাউন্ড, রুপি, ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম বেড়েছে, তবে ইয়েনের দাম অপরিবর্তিত ছিল। উল্লেখ্য, খোলাবাজারে বিদেশি মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি থাকে এবং ব্যাংকভেদে এই দরে তারতম্য হতে পারে।

ব্যাংক খাতের সুদের হার নিয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ সবসময়ই থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং আমানতের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে ব্যাংক ও স্কিমভেদে এই হার ভিন্ন হয়। যেমন, দীর্ঘমেয়াদী এফডিআর-এর ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংকে সুদের হার ১০ শতাংশের বেশি হলেও চলতি হিসাবে তা ৪–৫ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে, এসএমই ঋণের সুদ কম হলেও ব্যক্তিগত ও শিল্পঋণের সুদ ১৩–১৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সোনার বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে গতকাল শনিবার ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের সোনার ভরিপ্রতি দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভরিতে ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধির পর শুক্রবার ৩ হাজার ২২৬ টাকা কমেছিল দাম। পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে গত সপ্তাহে ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিমের ডজন ১৫০ টাকা হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শাকসবজির দামও আগের মতোই চড়া রয়েছে।