ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের ৫৪১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৫০০ জন সুবর্ণ জয়ন্তী স্কলারশিপ, ৩৮ জন লতা মঙ্গেশকর ড্যান্স অ্যান্ড মিউজিক স্কলারশিপ এবং তিনজন কোয়াড স্কলারশিপ লাভ করেছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, "ভারতে অবস্থানকালে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করবেন।"

হাইকমিশনার শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ে সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে, স্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে এবং দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ এই বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ভারত তাদের উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। সেখানে পড়াশোনার মাধ্যমে তারা ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সমাজকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।"

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের ওপর আস্থা রাখায় তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।"

অনুষ্ঠানে ঢাকার ১২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা খুব শীঘ্রই ভারতের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, ফার্মেসি, চারুকলা ও সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা করতে যাবেন।

জানা গেছে, এ বছর সারা বাংলাদেশ থেকে ৭ হাজার ৭০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। লিখিত দক্ষতা পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৫৪১ জনকে নির্বাচিত করা হয়।

আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর আওতায় বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানবিক, চারুকলা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয় এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য মাসিক ভাতাও প্রদান করা হয়।