বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে জেলার সাত সংসদ সদস্য সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আপস স্বীকার্য নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া শহরের ‘মম ইন’ অডিটোরিয়ামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক যুব দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বগুড়া থেকে আমরা যারা নির্বাচিত হয়েছি, আমরা সবাই বগুড়ার উন্নয়ন নিয়েই ভাবব। কে কোথায় কতটা সমালোচনা করলেন—সংসদে হোক কিংবা বাইরে—তাতে কিছু যায়-আসে না। আমিসহ বগুড়ার সাতজন সংসদ সদস্যই বগুড়ার উন্নয়নের বিষয়ে এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই।"

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বগুড়ার অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ স্থাপন, সিটি করপোরেশন গঠন, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থানান্তর এই মহাপরিকল্পনারই অংশ। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী বগুড়া-মাদারগঞ্জ পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণ সবচেয়ে যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শহরতলির উপযুক্ত স্থানে এটি স্থাপন করা হবে। শহরের তিনমাথা এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দেড় বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এআই ও আইটি প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত ৮৩ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রাথমিক ধাপে ১৬০০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মৌলিক ও উচ্চতর ধাপে মোট ২৭টি এআই টুলসের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন আর্ন প্রকল্পের আওতায় ২৫০টি উপজেলায় ৯ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল আটজন শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয় এবং আরও ২৪ জনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।