দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ায় সাধারণ মানুষ এখন আধুনিক বিকল্পগুলো বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রভাবে বাজারে কাপড় কাচার সাবানের ব্যবহার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে সাবানের ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে কমছে বলে জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ সালে সাবান ও ডিটারজেন্টের বিক্রির পরিমাণ প্রায় সমান থাকলেও পরবর্তীতে সাবানের বাজার সংকুচিত হতে থাকে। বিপরীতে গুঁড়া ও তরল ডিটারজেন্টের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান বাজার চাহিদার অনুপাত অনুযায়ী, লন্ড্রি সাবানের বাজার এখন মাত্র ৫ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য হিসেবে পাউডার ডিটারজেন্টের চাহিদা ৮০ শতাংশের বেশি। এছাড়া শহরাঞ্চলে লিকুইড ও ম্যাটিক ডিটারজেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যার বর্তমান চাহিদা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

মিরপুরের গৃহিণী সালমা বেগম দীর্ঘদিন সাবান ব্যবহার করলেও সম্প্রতি ডিটারজেন্টের ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তিনি বলেন, "একসময় কাপড় কাচতে গিয়ে হাতের চামড়া রুক্ষ হয়ে যেত, ব্যবহার করতে হতো প্রচুর পানি। কিন্তু এক বছর ধরে তাঁর এই কষ্টের অবসান ঘটেছে।"

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের বিপণন বিভাগের প্রধান ড. জেসমিন জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দেশের ডিটারজেন্টের বাজার বড় হচ্ছে। একই সঙ্গে তরল এ পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে। তবে লন্ড্রি সাবানের ব্যবহার বাড়ছে না, বরং এটা কমছে। তরল ডিটারজেন্টের বাজার প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে গৃহকর্মীরা দ্রুত কাপড় ধুতে তরল দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ওয়াশিং মেশিনে এটি ব্যবহার বেশি হচ্ছে। তবে বেশি ময়লা বা দাগ হলে গুঁড়া ডিটারজেন্ট বা সাবান ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে তরল ডিটারজেন্টের ব্যবহার আরও অনেক বেশি হবে। তখন এই বাজার বেশ বড় হবে।"

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মাদ সররাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার পাউডার দিয়ে কাপড় ধোয়ার কাজ করে, সাবানের ব্যবহার কমে এসেছে। তিনি বলেন, "এখন বেশির ভাগ পরিবার পাউডার দিয়ে বেশি কাপড় ধোয়ার কাজ করে। সাবান দিয়ে সাধারণত ধোয় না। এ কারণে বাজারে সাবানের চাহিদা কমেছে। এখন ৯৫ শতাংশ গুঁড়া ও তরল ডিটারজেন্ট ব্যবহার হচ্ছে।"

উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে কোহিনূর কেমিক্যালস দেশের কারখানায় স্প্রে-ড্রাই প্রযুক্তির প্রথম ডিটারজেন্ট পাউডার ‘জেট’ বাজারে আনে। পরবর্তীতে এই ব্র্যান্ডটি কল্লোল গ্রুপের কাছে বিক্রি হয় এবং বর্তমানে জাপানি প্রযুক্তিতে কল্লোল গ্রুপ ‘জেট’ ব্র্যান্ড বাজারজাত করছে।