প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না বা অধিকার পাবেন না বলে যারা অপপ্রচার চালায়, তাদের কথায় কান দেবেন না। বিএনপি আপনাদের পাশে রয়েছে; দলটি আপনাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায় শ্রীশ্রী যশোমাধবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উল্টো রথ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ধামরাইয়ের প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রা এদিন উল্টো টানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এতে হাজারো ভক্ত অংশ নেন। তবে রথযাত্রা শেষ হলেও এ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী মেলা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা সভায় বিজন কান্তি সরকার বলেন, আমরা কোনো বকশিশ চাই না, নিজেদের ন্যায্য পাওনা চাই। সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমি বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলেও পরিবার নিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি এখানে এসেছিলাম। কিন্তু এবার যে উল্লাস ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখছি, তা নজিরবিহীন। এতে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও আস্থা ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতেও সেই আস্থা থাকবে, আমরাও আপনাদের পাশে থাকব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। ধামরাই শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত[৩] মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।
জগন্নাথ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বলেন, উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ বছরের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে আয়োজন শেষ হয়েছে। রথ শেষ হলেও মাসব্যাপী মেলা চলবে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পুরো আয়োজন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
গত ১৬ জুলাই যশোমাধব বিগ্রহকে নিজ মন্দির থেকে মাসির বাড়িতে নেওয়ার মাধ্যমে এ বছরের রথযাত্রা শুরু হয়েছিল। আট দিন পর উল্টো রথটানের মধ্য দিয়ে যশোমাধবকে পুনরায় কায়েতপাড়া মূল মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় নারী-পুরুষের ঢল নামে এবং ভক্তরা কলা ও চিনি ছিটিয়ে ভক্তি নিবেদন করেন।
রথযাত্রা শেষ হলেও জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলাপ্রাঙ্গণ। ধামরাই পৌর এলাকায় মাসব্যাপী চলবে এই মেলা। সেখানে বিভিন্ন খাবার, প্রসাধনী, খেলনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে।