অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্পিকার জানান, "তিনি গুরুতর অসুস্থ। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসামর্থ্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।"

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদের কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা এবং জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর অপসারণ দাবি করলেও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত হলেও বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পদক্ষেপ নেয়নি, যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে বিএনপি বা সরকার প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগের দাবি জানায়নি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই খবরের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা শুরু হয়। গতকাল সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।"

অন্যদিকে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় ফেরেন। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা জানান।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এখন রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।