যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের (১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন) একটি বিশাল সামরিক ব্যয়-সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। গত বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৬-২১২ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। তবে এই বিলের বিশাল আকার এবং ইসরায়েলের সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাভুটিতে ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে এবং সাতজন রিপাবলিকান সদস্য বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধবিরোধী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি বলেন, ‘ন্যাশনাল ডি­ফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের (এনডিএএ) যে সংস্করণটি পাস হলো, তা মার্কিন সামরিক প্রযুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করছে। আশা করি সিনেটে এটি পাস হবে না।’

এনডিএএ-তে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৯০ হাজার কোটি ডলার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বিলকে। ট্রাম্পের মতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা চালিয়ে যেতে এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন।

বিলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে সমর্থন বাড়ছে বলে জানা গেছে।

এখন বিলটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সিনেট। হোয়াইট হাউস যখন সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখন এত বড় সামরিক ব্যয়ের বিরোধিতা করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। গত সপ্তাহে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ নিয়ে বিতর্ক শুরু করার উদ্যোগ আটকে দিয়েছিলেন। সিনেটে সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বিলটিকে ইরানের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধের জন্য ‘অনুমতিপত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সাধারণত এনডিএএ এমন একটি বিল যা কংগ্রেসে পাস হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হয়। তবে এবারের বিলে ইউক্রেন সহায়তা এবং ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনের মতো কিছু বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের অন্যতম লক্ষ্য এই আইনের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ও কড়াকড়ি আরোপ করা, যা ভোট জালিয়াতি রোধ করবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও তাঁর এই দাবি সত্য নয়।