সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তবেই রিয়াদের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করবে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শর্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এই চুক্তি কেবল বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। বর্তমানে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও আরও কয়েকটি দেশের এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর। উল্লেখ্য, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
ট্রাম্প আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা ও কর্মসূচির বিরোধী নয়।"
এর আগে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারত। এছাড়া ইরানের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন যে ধরনের তাৎক্ষণিক জাতিসংঘ পরিদর্শনের শর্ত দিয়েছিল, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছিল।
তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেওয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান বজায় রেখেছে সৌদি আরব।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে মার্কিন মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় আব্রাহাম অ্যাকর্ডস। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান এই চুক্তিতে যোগ দিয়েছে।