রাজশাহীর পবা উপজেলায় রাস্তার কাজের জন্য যুবদল কর্মীর কাছে চাঁদা চাইতে গিয়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পিটুনির শিকার বিএনপির কর্মীর নাম আতাবুর রহমান। তাঁর বাড়ি নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লায়। তিনি নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী। বিকেলে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় একটি রাস্তার কাজ চলছে। মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে সেখানে মাটি কাটার কাজ পেয়েছেন স্থানীয় যুবদলের কর্মী আজাদ আলী। আজাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পরই আতাবুর রহমান তাঁর কাছে চাঁদা চাইতে গিয়েছিলেন।
আজাদ আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আজই কাজ শুরু করেছি। তারপরই আতাবুর এসে বলেন, কাজ করলে তাঁকে টাকা দিতে হবে। তা না হলে ভেকু গাড়ি ভেঙে দেবেন। আমি বলি, আমিও বিএনপি, তুই-ও বিএনপি। কিসের টাকা? এই কথার পর তর্কবিতর্ক হচ্ছিল। তিনি চাঁদা চাইতে এসেছেন দেখে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজনই তাঁকে মেরেছেন।’
আজাদ জানান, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব হোসেন পবা থানায় যান। এটি দেখে আতাবুর লোকজন নিয়ে এসে থানার সামনে তাঁদের মারধর করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা থানাতেই ছিলেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে মীমাংসা করে নিতে বলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আতাবুর মাদকের ব্যবসা করেন। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন। তাঁকে বিএনপির কেউ কেউ প্রশ্রয় দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত আতাবুর রহমানের মুঠোফোন নম্বরে কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়। নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজাদ যুবদলের কর্মী আর আতাবুর বিএনপির কর্মী। তাঁর কাছে চাঁদা চাইতে যাওয়ার তো মানে হয় না। ৫ আগস্টের পর সে মানুষকে যে অত্যাচার করেছে! যাকে-তাকে বলে, তুই আওয়ামী লীগ। যা–ই হোক, এ কথা বলতে চাই না। যাঁরা আতাবুরকে শেল্টার দেন, তাঁরা ভাগ খেয়ে বসে থাকেন।’
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কী নিয়ে ঘটনা, তা অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না। অভিযোগ হলে তদন্ত করে দেখা হবে।’






