তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেব’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের অস্তিত্ব মুছে ফেলা তাঁর লক্ষ্য।
গতকাল বুধবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’ অভিষেকের ২০৩১ সালের হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘২০৩১ সালে আপনি বাইরে থাকলে তবেই তো হিসাব নেবেন।’
এর আগে গত মঙ্গলবার ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’-এর সমাবেশে ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সব হিসাব বুঝে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিধানসভায় এই প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে আমপান-সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিজেপি সরকার গঠন করলেও তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়। তবে এরপর থেকেই দলটিতে ভাঙন শুরু হয়। তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৭০ জন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া দলের ২৮ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ২০ জন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে নতুন দল এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন, যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে মমতা ও অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল ‘শহীদ দিবস’-এর সমাবেশ করে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ মেয়ো রোডে আলাদা সমাবেশ আয়োজন করে, যেখানে তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাবেক মন্ত্রী, বিধায়ক ও জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মমতার সমাবেশে দীর্ঘ বিরতির পর বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গাদ্দারি করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। বাংলা থেকে বিজেপিকে উৎখাত করবই। কী করবে বিজেপি? জেলে ভরবে? মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে? ফাঁসাক। তবু মাথা নত করব না। কারণ, আমার মেরুদণ্ড বিক্রি করার জন্য নয়।’ তিনি আরও ঘোষণা করেন, ‘আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হলো। এ নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে। ২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেবে।’
অভিষেকের এই বক্তব্যের জবাবেই বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘শহীদ দিবসের দিন বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’
পাশাপাশি, ২৫ জুলাই আমপান-সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহা হিসাব নিরীক্ষকের (সিএজি) ২৮টি প্রতিবেদন বিধানসভায় উপস্থাপন করার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়ে রাজ্যপালের কাছে আবেদন করা হবে।
কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘কেউ রেহাই পাবে না। যত দুর্নীতি হয়েছে, সব বের করে আনা হবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতেই প্রমাণ করে দেব, আপনি প্রতিষ্ঠিত “চোর”।’