সারা দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংস্কার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে বরাদ্দ ও আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্যদের আসনভিত্তিক মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান, চার্চ, প্যাগোডা ও ঈদগাহের মতো স্থাপনাগুলোর সংস্কার করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাবে। এই লক্ষ্যে আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে এই প্রকল্প পাস হয়েছিল, যার আওতায় ইতিমধ্যে ১৭ হাজার ৩২১টি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ৮৭৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে আরও ১৫ হাজার ৫৭১টি প্রতিষ্ঠানকে এতে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পের মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে সংসদ সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হলেও এবার এলাকার প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য যেসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রয়োজন তার তালিকা দেবেন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর পরিদর্শনের পর চাহিদামত বরাদ্দ দেওয়া হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বিগত সরকারের নেওয়া প্রকল্পটিকে সংশোধন করে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব (সদস্য) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দলমত-নির্বিশেষে সমাজে উপাসনালয় সবারই প্রয়োজন। তাই আগের তালিকা কিছুটা কাটছাঁট করে প্রকল্পটি নতুন করে সাজানো হয়েছে।"

চাহিদা অনেক বেশি থাকায় প্রকল্পটি শেষ হলে ভবিষ্যতে নতুন করে পুনরায় প্রকল্প আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

আজকের একনেক সভায় উপাসনালয় সংস্কারসহ মোট ৯টি প্রকল্প উত্থাপিত হতে যাচ্ছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে চারটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সিলেটের ধর্মপাশা উপজেলায় গ্যাসকূপ খনন ও উন্নয়নের জন্য ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার মাধ্যমে তিনটি কূপ খনন করে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কূপে প্রায় ৭১১ বিলিয়ন কিউবিক ফিট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে, যা আমদানি করতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। ফলে প্রকল্পটি সফল হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া মেঘনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে ভোলা এলাকায় ৬৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৬ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন এবং ৫ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে, যা প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করবে।

বৃহত্তর দিনাজপুরের রাস্তাঘাট ও ব্রিজ উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যার আওতায় পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এলাকার উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম্য সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশের সাড়ে ৯১ হাজার কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি আলাদা নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়ছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পও রয়েছে। এসব ছাড়াও পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া আরও ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হবে।