স্পেন ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখা যায়নি উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনকে। তার এই অনুপস্থিতি কাকতালীয় ছিল না। ফিফার একাধিক সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ফাইনাল বয়কট করেন ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

ঘটনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত, রেফারিদের ব্যবস্থাপনা ও ম্যাচ পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফিফার সঙ্গে উয়েফার বিরোধ তৈরি হয়েছে।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ঘটনা। লাল কার্ড দেখার পর তাঁর স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ফিফা। বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করে উয়েফা জানায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিফা ‘সীমা অতিক্রম করেছে’।

সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারাও দুই সংস্থার সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় বিশ্বকাপে যেতে পারেননি তিনি। পরে আরতানকে পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইরানের ম্যাচগুলো ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর পদ্ধতি নিয়েও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। পাশাপাশি ফিফার বাধ্যতামূলক পানিবিরতি ও ফাইনালের দীর্ঘায়িত মধ্যবিরতির সিদ্ধান্তও উয়েফার আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এসব বিরোধের জেরেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নেন চেফেরিন। তার এই পদক্ষেপ ফিফা ও উয়েফার মধ্যে ক্রমেই বাড়তে থাকা দূরত্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন।