চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর সহকর্মী আইনজীবী শহিদুল আলম। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন।
মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী শহিদুল আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস ইউ এম নুরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সোমবার শহিদুল আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
.বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান শহিদুল আলম। সাক্ষ্যের শুরুতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন আইনজীবীরা আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় পেছন থেকে সাইফুল তাঁকে ডাক দেন।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ শহিদুল আলম বলেন, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা।
.এ পর্যন্ত বলার পরই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। এ সময় আদালতকক্ষে নীরবতা নেমে আসে। উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রায় এক মিনিট পর তিনি আবার সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন।
সাক্ষ্যে শহিদুল আলম বলেন, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি দেখেন, নীল রঙের গেঞ্জি পরা, মাথায় হেলমেটধারী এবং হাতে কিরিচ থাকা এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি সামনে যাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তিরা তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।
.চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, আইনজীবীকে হত্যা .আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। পরে বাদীর আপত্তির পর একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
.চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১১ জন.বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, মামলার আসামি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা নামঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে শহিদুল আলমকে অন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। তবে চিন্ময় দাসের পক্ষে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন।