সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলেনি বিএনপি, বরং তারা বরাবরই সংবিধান সংশোধনের কথা বলে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন। এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা তো বরাবরই বলে আসছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। সুতরাং জনগণ আমাদেরকে যে ভোট দিয়েছে, ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উই আর কমিটেড। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে আমরা কমিটেড হচ্ছি জুলাই সনদে। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি। এখানে সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রতিটি অক্ষর আমরা পালন করব, এটা হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট।’

ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষর অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বিএনপি বারবার বলছে। তবে গণভোট ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মতো কিছু বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এসব বিষয়ে দলটি কখনোই একমত ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু চাই না যে জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক।’

২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে, কারণ মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু সুন্দর করা সম্ভব নয়।

প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটি লিবারেল ডেমোক্রেসির পক্ষে সমাজকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামে যাঁরা পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন প্রকৃত গণতন্ত্রমনা, অসাধারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও দেশপ্রেমী ছিলেন। জীবনের সব দর্শন নিয়ে দেশের মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী। তিনি অধ্যাপক এমাজউদ্দিনকে আদর্শ শিক্ষক, গবেষক ও গণতন্ত্রচর্চার পথিকৃৎ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন এবং বিএনপির সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম। তিনি অধ্যাপক এমাজউদ্দিনকে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের বাতিঘর হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, বিএনপির প্রতিটি সংকটে তিনি অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, লেখক আবুল কাশেম হায়দার, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর ফারুক এবং নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ।