বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ত্রিশ গোডাউন পর্যটনকেন্দ্রে নৌকা ও ট্রলার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস এম শরিয়ত উল্লাহ সম্প্রতি ওই এলাকায় ঘুরতে গিয়ে এই চাঁদাবাজির বিষয়টি লক্ষ্য করেন। গোপন ক্যামেরায় এই কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বুধবার পুলিশকে মামলা করার আদেশ দিয়েছেন তিনি।

আদালতের আদেশে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাদী হয়ে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য আদালতে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাই জাস্টিস অব দ্য পিস ত্রিশ গোডাউন এলাকা পরিদর্শনের সময় নদী তীরের নৌকা ও ট্রলার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের ঘটনা দেখেন। একাধিক মাঝি আদালতকে জানিয়েছেন, "সাঈম নামের এক ব্যক্তি লোকজন দিয়ে প্রতিদিন নৌকা ও ট্রলারপ্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন।"

মাঝিরা আরও জানান, আগে কখনো তাঁদের এ ধরনের চাঁদা দিতে হয়নি। এই চাঁদাবাজির কারণে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং এর প্রভাব পর্যটকদের ওপরও পড়ছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর আইন লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এজাহারকারী করে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হলো।"

এই বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি শুনেছেন। তবে আদেশের অনুলিপি এখনো হাতে পাননি। আদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।