অভাব-অনটনের সংসারের প্রতিকূল বাস্তবতা পেরিয়ে দেশের সেবা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর তালাইমারি এলাকার কিশোর মোঃ সিয়াম। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্বপ্ন দেখছে সে। সিয়াম বর্তমানে রাজশাহী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিয়াম মেজো। মা-বাবা ও ভাইবোনদের নিয়ে তালাইমারির কেদুর মোড় এলাকায় বসবাস তাদের। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী সিয়ামের বাবা জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন নদীতে মাছ শিকার করতে যান। বাবার সীমিত ও অনিশ্চিত আয়েই কোনোমতে চলে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার। সংসারের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো যেখানে কঠিন, সেখানে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সিয়ামের জন্যও ছিল বড় এক সংগ্রাম।
তবে চরম দারিদ্র্যও থামাতে পারেনি সিয়ামের অদম্য ইচ্ছাকে। ছোটবেলা থেকেই সে সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্বপ্ন বড় করে ধরে রেখেছে। মূলত সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, গভীর দেশপ্রেম এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই তার মনে এই স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছে। সিয়াম মনে করে, কঠোর পরিশ্রম, সততা ও শিক্ষার মাধ্যমেই একদিন সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
সিয়ামের এই স্বপ্নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হিসেবে কাজ করছে রাজশাহী আলোর পাঠশালা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষকদের আন্তরিক স্নেহ ও দিকনির্দেশনাও সিয়ামকে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী থাকতে সহায়তা করছে।
এদিকে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সহযোগিতাও সিয়ামের মতো অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠেছে। এই ট্রাস্টের সহায়তার কারণেই আর্থিক সংকটের মধ্যেও সিয়াম তার শিক্ষাজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে পারছে। সিয়ামের মা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ' আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু আমাদের সব কষ্টের মাঝেও একটাই বড় আশা আমার ছেলে যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে।'
সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সিয়ামের এগিয়ে যাওয়ার গল্প সমাজের আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট ও রাজশাহী আলোর পাঠশালার যৌথ উদ্যোগে সিয়ামের মতো অসংখ্য শিশু নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—যারা একদিন নিজের যোগ্যতায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।






