ফুটবল ম্যাচে ভাগ্য বদলে দিতে কতক্ষণ সময় লাগে? স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর পারফরম্যান্স দেখলে মনে হবে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। এবারের বিশ্বকাপে অধিকাংশ সময় ডাগআউটে কাটালেও, প্রয়োজনে মাঠে নেমে গোল করার অনন্য দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। মূলত এই বিশ্বকাপটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে বদলি খেলোয়াড়দের আসর, যেখানে বেঞ্চ থেকে আসা ফুটবলাররাই গড়ে দিয়েছেন বড় ব্যবধান।
মেরিনোর কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এর কিছু পরেই তাঁর গোলেই পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেছে একই চিত্র। বদলি নামার পর খেলার শেষ মুহূর্তেই গোল করেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন নকআউট ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়লেন মেরিনো। অবাক করা বিষয় হলো, এই দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন মাত্র ৯ মিনিটের কিছু বেশি সময়!
মেরিনোর পাশাপাশি বদলি নেমে নিয়মিত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন রোমেলু লুকাকু। নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচেও গোল পেয়েছেন বেলজিয়ামের এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপের সব আসর মিলিয়ে বদলি নেমে তিনি করেছেন মোট চার গোল, যা ক্যামেরুনের রজার মিলারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। তবে স্পেনের কাছে হেরে বেলজিয়াম বিদায় নেওয়ায় এবার আর এই সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ নেই তাঁর।
বদলি খেলোয়াড়দের সাফল্যের তালিকায় রয়েছেন জার্মানির দেনিস উনদাভ। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে বদলি হয়েই জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জার্মানি শেষ ৩২-এ বিদায় নিলেও, একাদশে সুযোগ না পেয়ে উনদাভ করেছেন তিনটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের মিলারের পর এক বিশ্বকাপে বদলি নেমে গোলে এত বেশি অবদান রাখার ঘটনা এবার প্রথমবার ঘটল।
পরিসংখ্যান বলছে, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলা ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৬৬টি গোলের মধ্যে ৫০টিই এসেছে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে, যা মোট গোলের ১৮.৬ শতাংশ। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন বদলি নামানোর নিয়ম এবং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমে পরিশ্রান্ত খেলোয়াড়দের বদলে তরতাজা ফুটবলার নামানোর কৌশল এই পরিসংখ্যানে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে যোগ করা সময়ে গোল হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যার বড় অংশই করছেন বদলি খেলোয়াড়রা।
শুধু গোল করা নয়, গোল করানোতেও অবদান রাখছেন অনেকে। কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ড যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন অ্যান্থনি গর্ডনের দুই অ্যাসিস্ট থেকে হ্যারি কেইনের জোড়া গোল স্বস্তি এনে দেয়। অন্যদিকে, ইরাকের বিপক্ষে সেনেগালের ইলমান এনদিয়ে এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন। বিশ্বকাপের একই ম্যাচে বদলি নেমে গোল, অ্যাসিস্ট, প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচটি স্পর্শ এবং পাঁচটি ড্রিবল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।
তবে সব ক্ষেত্রে বদলি খেলোয়াড়দের কৌশল কাজে আসেনি। মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারের ঠিক আগে নিয়মিত গোলকিপার প্যাট্রিক বিচকে তুলে ম্যাট রায়ানকে নামিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া কোচ। কিন্তু এই ফাটকা কৌশল ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মিসরই জয়লাভ করে। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়রা নামলেই যে জয় নিশ্চিত, বিষয়টি সবসময় তেমন নয়।






