আর্জেন্টিনা মিসরের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ খেলেছে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দলটি শেষ পর্যন্ত ১৩ মিনিটে ৩ গোল দিয়ে জয়ের দেখা পায়। আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘কামব্যাকের’ গল্প লেখার পরও ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় উঠে আসে অন্য একটি প্রসঙ্গ।
ওই ম্যাচের পর রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন মিসরের কোচ ও ফুটবলাররা। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল ফেডারেশন। কিছু অভিযোগে বলা হয়, আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে কাজ করে ফিফাও।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। কোয়ার্টার ফাইনালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ের যে চর্চা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই, এমনকি মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গেও এর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সময়ে যেকোনো ছোট বিষয় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে বড় আকার ধারণ করে। তবে আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া বা কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগে এমনটা ঘটা সম্ভবই নয়।’
স্কালোনি আরও যোগ করেন, আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে কোনো দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া অসম্ভব। ফুটবলে রেফারিংয়ের ত্রুটি ও পক্ষপাত কমাতে ফিফা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে—এমন কথার সঙ্গেও মিলিয়ে তিনি জানান, ম্যাচের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত দেখানোর সুযোগ কার্যত নেই। সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি, বলের ভেতরের কানেক্টেড চিপ এবং মাঠের চারপাশের হাই-ডেফিনিশন ‘ভার’ ক্যামেরার কারণে ম্যাচ রেফারি বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের পক্ষে চাইলেও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
মিসর ম্যাচের ঘটনাগুলো নিয়েও তাই বিশেষ কিছু নেই বলে স্কালোনির বিশ্বাস, ‘ম্যাচ শেষে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ আপত্তি তুলতেই পারেন বা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু নিয়ম সবার জন্যই সমান এবং তা সুনির্দিষ্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলগুলোকে এসব নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করি, এসব আলোচনার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের মিলই বেশি।’






