খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও তা মাত্র ৬ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পোলট্রি খামারিরা। এর ফলে প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। অথচ ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম এখনো ১০ টাকার ওপরে। এমন পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী এসব দাবি তুলে ধরেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খামারিরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ মহাসচিব মো. সাফির রহমান ও যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, "উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে তার চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁরা প্রতিদিন লোকসান গুনছেন এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।" তিনি জানান, প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা লোকসান হিসেবে মাসে খামারিদের প্রায় ৪২৪ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া এই খাতে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিপিআইএ সভাপতি আরও বলেন, "দেশে মাছ, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পোলট্রি–শিল্পের মূল চালিকা শক্তি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।" তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, গত ৫ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।
সংকট উত্তরণে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও ‘ফেয়ার প্রাইস’ বা ন্যায্যমূল্য ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানায় সংগঠনটি। উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এমনভাবে মূল্য নির্ধারণের দাবি জানানো হয়, যাতে খামারিরা ন্যূনতম মুনাফা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ে একটি ডিজিটাল পোলট্রি ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিপিআইএ মনে করে, এর মাধ্যমে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণ সহজ করবে।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, "খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি।" প্রতিবেশী দেশগুলোতে পোলট্রি খাদ্যের কাঁচামালে এমন কর নেই বলেও জানান তিনি।
বিপিআইএর অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—নিবন্ধিত খামারিদের জন্য ফার্মার আইডি চালু করা, উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সমবায়ভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা।