যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটি সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। জামাল ভূঁইয়ার মতে, "সত্যি বলতে, এই জয়টা স্পেনের প্রাপ্যই ছিল।"

যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, বিশ্বকাপের প্রতি স্থানীয়দের প্রবল উৎসাহ এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উষ্ণ আতিথ্য তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, "আজ হোটেল থেকে বের হতেই দেখি জনা বিশেক বাংলাদেশি ভক্ত আমার জন্য নাকি দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন! এই অল্প সময়ে এখানকার বাঙালিদের কাছ থেকে যে উষ্ণ আতিথ্য, ভালোবাসা আর দাওয়াত পেয়েছি, তা সত্যিই ভোলার নয়।"

ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ায় প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার কারণে গ্যালারিতে বসে থাকা কষ্টকর ছিল বলে জানান তিনি। তবে মাঠের ফুটবলের উত্তেজনা সেই কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। জামাল ভূঁইয়া লক্ষ্য করেন, বেলজিয়াম দল হিসেবে স্পেনের মতো শক্তিশালী ছিল না এবং তারা তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। স্পেনের মাঝমাঠের দাপট এবং তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের নৈপুণ্য তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। তিনি লিখেছেন, "মাঠে লিওনেল মেসিকে যেমন তাঁর টিমমেটরা বল দেওয়ার জন্য খোঁজে, আজ স্পেনের ম্যাচেও প্রায় একই দৃশ্য দেখলাম। সতীর্থরা বারবার ইয়ামালকেই বল বাড়িয়ে দিচ্ছিল।"

স্পেনের জয়ের পেছনে মিকেল মারিনোর অবদানকে 'সুপার সাব'-এর ভূমিকা হিসেবে দেখছেন তিনি। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির পর বিকল্প হিসেবে নামা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেনে লামেন্সের ভুল গোল হজমের পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করেন জামাল।

টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথম গোল হজম করা স্পেন এখন সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, "ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে কিলিয়ান এমবাপ্পেদেরই একটু হলেও এগিয়ে রাখতে হবে। তবে ব্যবধানটা খুব বেশি নয়, ফ্রান্সের পক্ষে শতকরা হিসাবে ৫৫-৪৫ বলা যায়।"

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালারিতে বসে পাঁচটি বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার পর এটিই ছিল তার শেষ ম্যাচ। আগামী ১৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্লাই করার কথা তার, যার মাধ্যমে ১৫ তারিখ নাগাদ তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। বাকি দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল (ইংল্যান্ড–নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড) তাকে টেলিভিশনেই দেখতে হবে।